কবিতা

https://fbcdn-sphotos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-snc6/199802_199712840046595_100000236404985_713416_7126835_n.jpg
“প্রত্যয়”

বৃষ্টি পড়ছে এক ভাবে,
এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।
দোতালার ছাঁদের কার্নিশ বেয়ে
পানি পড়ছে টুপ টাপ করে।
পার্শ্বেই রাস্তা, সেই পানি পড়ছে খুব ধীরে।
আশ্চর্য-
এতেই ধসে পড়েছে রাস্তার কঠিন পাথর।
এভাবেই ধীরে ধীরে শোষণের শৃংখল
খুলতে হবে।
ধীরে- অথচ, দৃঢ় প্রত্যয়ে।।


- মোঃ জাকির হোসেন।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------


হঠাৎই একদিন-
দু’জনে পাশাপাশি হেটেছি,
মাঝে মধ্যে আঁড় চোখে
তুমি তাকিয়েছিলে।
মনে হয় কিছু বলতে-
তুমি বলনি-
আমিও বলিনি।
এভাবেই চলা শেষ হলো।
দু’জনে দু’দিকে।।


-মোঃ জাকির হোসেন।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
"স্বপ্নাবিষ্ট তোমাকে"
আমি আশ্চর্য হইনি-
কারণ? আমি জানতাম-
এই মহুর্তে এমন কথাই প্রযোজ্য।
তোমার মোহ বেশীদিন স্থায়িত্ব পাইনি আমাকে ঘিরে।
স্বপ্নাবিষ্ট হয়ে কাটিয়ে দিলে কয়েকটি বছর।
আমাকে ঘিরে স্বপ্নতে বিভোর থাকতে পারোনি তুমি।
কারণ আমি সেই ব্যক্তি নই-
শ্রেণী বৈষম্যের সমাজে আমি নগন্য পুরুষ মাত্র।
আমার আর কোন পরিচয় নেই।
প্রচলিত সমাজে একটি পুরুষের কাছে বাহ্যিক পাওনা
হিসেবে যা চায় নারী কুল, তা থেকে তুমি বঞ্চিত হবে?
তুমি তা চাওনি।
ডুমুরের ফুলের মত আমার স্বপ্নের কথা-
তোমার স্বপ্নকে ভেঙ্গে দিয়েছে।
তুমি মুক্তি চাও, শান্তি পেতে চাও।
এটা স্বাভাবিক!
আমি তোমার কাছে মুল্যহীন এই পৃথিবীতে।
কিন্তু? আমার মুল্য আমি গড়ে নেব-
পৃথিবীর মানুষের কাছে।।


-মোঃ জাকির হোসেন
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
"বড় একা লাগে"
বড় একা লাগে-
যখন আমার চারিপাশে দেখি
গ্রীষ্মের খর রৌদ্রে, মাঠ, ঘাট
শুকিয়ে যায়-।
সবুজের সমারোহ যখন মৃতপ্রায়
মাটি পানির তৃষ্ণায় চৌচির
হয়ে যায়-।


বড় একা লাগে-
যখন ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ শুনি।
এক মুঠো ভাতের জন্য অবলানারী
দেহ পশারীনি হয়-।
যখন কংকালাসার মানুষগুলির
কান্না শুনতে কেউ থমকে গিয়ে
তাদের সাথী হয়না-।


বড় একা লাগে-
যখন তোমার হৃদয়ের কথাগুলো
ভুলতে পারিনা, তোমাকে পারিনা
কাছে টেনে নিতে।
যখন সমস্ত সমস্যা একীভুত হয়।
কেউ আসেনা সমাধান করতে,
তখন একা লাগে।।


- মোঃ জাকির হোসেন
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“প্রত্যাশার দিগন্তে”
অবসর কাটিয়ে দেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মণ্ডিত
দৃশ্যগুলি দেখে-
সু-উচ্চ অট্রালিকার ছাদ থেকে দৃষ্টি
বহুদুর চলে যায়-
তারচেয়েও দূরে যায় হৃদয় দৃষ্টি।
ভাল লেগে যায় পৃথিবীর প্রকৃতিকে।
নতুন প্রজন্মের শিশুরা কেমন আত্মবিভোরে
সবুজ ঘাসে লুটিয়ে পড়ছে।
কেন জানি ভাবতে অবাক লাগে শিশু বয়সের
স্মৃতি চারণে।
বড় হবার কি অদম্য বাসনা।
অনেক বড় হয়েছি। শিশু বয়সে নিষিদ্ধ সবই
এখন কাছাকাছি।
ফিরে যেতে ইচ্ছে করে আবারও শৈশবে।
কদর্যতায় ভরা নোংরা পৃথিবী থেকে
নির্মল সবুজ পৃথিবীতে ভাবনাহীন।
হ্যাঁ- ফিরে পাই মাঝে মাঝে আকাংখিত পাওনাকে।
তোমার কোলে মাথা রেখে যখন
আমার দুচোখ বুজে আসে।


-মোঃ জাকির হোসেন
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“ জোনাকিরা আলো-প্রেম দিয়ে যায়”

গাঢ় অন্ধকারেও জোনাকিরা আলো দিয়ে
অন্ধকারকেও ম্লান করে দিয়েছে।
আকাশে চাঁদের আলো নেই, নক্ষত্র নেই
অন্ধকার জীবনের একাকীত্বে
জোনাকির আলোর মত তার প্রেম
দিয়েছে আলো-
এর মাঝে হেঁটে যাওয়া অভীষ্টে
তার কাছাকাছি নির্জনতায়।
কেউ নেই, কিছু নেই
চার চোখের আলোর দৃষ্টি মিলিত হয়,
না বলা কথা গুলি বলা হয়ে যায়।
জোনাকিরা আলো দিয়ে যায় অন্ধকারে।।


-মোঃ জাকির হোসেন।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“বাসন্তীদের তন্ত্রের কথা বলুন”
৭৪-এর বাসন্তী আজো আছে ৯১-এ
শাড়ী তার জোটেনি, অভুক্ত অনাহারে
জীর্ণ- ক্লিষ্ট দেহ নিয়ে বাংলাদেশের কোলে আজ মৃত্যু প্রায়।-
বয়ে গেছে বহু জল পদ্মা, মেঘনা, যমুনা
ধলেশ্বরীতে-
প্রকৃতির বৈরিতায় ভেঙ্গে গেছে অনেকের স্বপ্ন,
বেচে থাকার অবলম্বন-
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ভবনের সুদৃশ্য চেয়ারের
চেহারা বদল হয়েছে বার বার-
বদলেছে অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক রূপরেখা,
বদালায়নি লক্ষ্য।
সিরামিকের দেয়ালে আবদ্ধ হয়েছে
গনতন্ত্র।
চা, কপি, বিদেশী মদের আপ্যায়নে
গনতন্ত্র উল্লসিত-প্রশংসিত।
মাইক্রোফোনের ভলিউমে কান ফেটে যায়
আপনাদের গনতন্ত্রের বত্তৃতায়-
৭৪-এর বাসন্তী, নিরমলেন্দু গুনের নেকাব্বরেরা
আজ অসংখ্য-
আপনাদের গনতন্ত্রের কথা ওরা কিছু
বোঝে না-
ওদের বাঁচার তন্ত্রের কথা বলুন,
নইলে মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে
ঐ বোবা বাসন্তী, শব নেকাব্বর হটাৎ
বলে উঠতে পারে তাদের তন্ত্রের কথা-
দোঁহাই আর কাঁদাবেন না,
নীরবে কোটি কোটি বাসন্তী
আর নেকাব্বর দের
ঐ কথা বলে।।


-মোঃ জাকির হোসেন


(বিঃদ্রঃ- কবিতাটি ৯১ সালে রচিত)


------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“কবিতার উৎস”
কবিতার উৎস যেখানে তুমি,
ফুলের সমারোহ, শোভা, যেখানে তুমি
গানের সুর, ছন্দ, তাল, তোমার কন্ঠে
জীবনের চলার পথে-
ঐ কাশ বন, মেঠোপথ, কৃষ্ণচুড়া, নীল আকাশে
খুজে ফেরা সাথীকে-
স্বাভাবিক গতিতে নদী মোহনায়
মিলিত হওয়ার আকাংখায় উৎকণ্ঠিত।
সে নদীতে চর, বালুকা রাশিতে স্রোত নেই,
গতি নেই, স্থবির আকাংখা।
একটি ঝড়, প্লাবন ঐ নদীতে জাগাতে
পারে স্রোত, পাল তোলা নৌকার মাঝির
গান বাতাসে ভেসে বেড়াবে।
নীল আকাশে ডানা মেলবে
দুটি পাখি-
এই আকাশকে ভাল লাগবে,
কবিতা খুজে পাবে তার উৎসকে,
কবিতা হবে তোমার আমার
ভালবাসার শব্দ চয়ন।।


-মোঃ জাকির হোসেন।
-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“প্রশ্ন করোনা কোথায় চলেছি”
প্রশ্ন করোনা কোথায় চলেছি-
যেখানে খাদ্য নেই, বস্ত্র নেই,
কোন স্বপ্নের বাস্তবায়ন নেই,
প্রেম নেই, ভালবাসা নেই,
মায়া নেই, মমতা নেই,
প্রিয়ার হাত ধরে চলা নেই,
সত্যের পরিস্ফুটন নেই,
সেখানে থাকি কি করে?


- মোঃ জাকির হোসেন


৩০.০৪.১৯৯০
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“বেশী দূর যেতে পারেনি”
নিঃস্ব অসহায় এক যুবক
এগিয়ে চলছে রাজপথ ধরে সামনে।
লক্ষ্য তার সোডিয়াম বাতির শহরকে।
সুজলা- সুফলা গ্রামে খাদ্যাভাব,
অভাব বাঁচার আর ভালবাসার।
পরিবারের সবাই ক্ষুধার্ত।
এখন সে বাঁচার সন্ধানে-
রাজপথে অনাহার ক্লিষ্ট দেহকে
বয়ে নিয়ে চলেছে, উন্নত সমাজের দ্বারে।
সে হাটতে হাটতে স্বপ্ন দেখে-
প্রিয়ার হাত ধরে, শহরের পার্কে
কিংবা রঙ্গমঞ্চ থেকে ফিরছে।
স্বপ্ন শেষ হয়নি-
চলন্ত ট্রাক তাকে চিড়ে চ্যাপ্টে
চলে গেছে-
তখনো তার শেষ নিঃশ্বাসে
ভেসে আসছিল,
বাঁচার কথা, একটু ভালবাসার কথা।।


- মোঃ জাকির হোসেন
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“ পড়ে থাকা দেহটি”
শহরের ব্যস্ততম সড়কে
পড়ে থাকা শীর্ণ, উলঙ্গ দেহ,
কারো নজরে পড়েনা-
বাস,ট্রাক, রিক্সা, ট্যাক্সি
এগিয়ে চলে দ্রুত বেগে,
পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অফুরুন্ত
সাধ সকলের-
কেউবা ধীরে ধীরে চলছে হেটে,
সিনেমার দৃশ্যের মত
দিয়ে যাচ্ছে কয়েকটি পয়সা,
ছুড়ে যাচ্ছে সস্তা সহানুভূতি।
এদেহ কেন পড়ে আছে?
ধুলো বালির আস্তর মেখে।
বঙ্গ নারীর এ বেশ নয়।
থাকবে সে গৃহবধু কিংবা মমতাময়ী
মায়ের মত স্নেহের পুত্রের গৌরবে।
সমাজের নিষ্ঠুর কষাঘাতে-
হারিয়ে গেছে তার গৃহ, স্বামী সংসার,
অবিচারে হিংস্র দাবানলে
পুড়ে গেছে তার দেহের সৌন্দর্য,
সুখ, স্বপ্ন, আদিখ্যেতা।
তাই পড়ে আছে সে রাস্তায়-
বোবা দৃষ্টিতে সকলের পানে চেয়ে।
এওতো হতে পারতো কোন এক
অভিজাত পরিবারের গৃহিণী কিংবা মা।
আজ সে তার লজ্জা স্থান ঢাকবার
চেষ্টাও হারিয়ে ফেলেছে।
কিন্তু কেন?
এ প্রশ্নের জবাব,
সমাজ দেবে কি?


- মোঃ জাকির হোসেন।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“ যে কথা বলোনি”
যখন তুমি ছিলে-
অতি প্রত্যুষ্যে জেগে তোমার দৃষ্টির সম্মুখে,
আমি নতজানু হয়ে রইতাম।
তোমার পায়ে চলা শিশির ভেজা ঘাস গুলো
নগ্ন পা গুলিকে পরশ বুলাতো।
আমি কেন যেন- উন্মাদ হয়ে,
বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে দেখতাম তোমায়।
জানিনা কেন যে এমন হতো,
আমার দেহভ্যন্তরে শির শির করে উঠতো।
হয়তোবা ভালবেসেছিলাম তোমায়,
সেই চোখ, চাহনী, চলার মাধুরাতাকে।
নয়তো ভুল করেছিলাম,
ভ্রান্ত পথে পা দিয়েছিলাম।
চেয়েছিলাম- তোমার বুকের গভীর হতে,
একটি শব্দ আমাকে মোহিত করবে,
করবে বিশ্ব জয়ী-
জানো- সেটা কি?
ভালবাসি-


-মোঃ জাকির হোসেন।





These icons link to social bookmarking sites where readers can share and discover new web pages.
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google
  • Furl
  • Reddit
  • Spurl
  • StumbleUpon
  • Technorati

One Response to this post

  1. M.S.Polash on ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১ এ ৭:১০ AM

    ভাই আপনি খুব সুন্দর কবিতা লিখেন :)

Leave a comment

Admaya