কবিতা “উদ্বাস্তু জীবনে এক কাপ চা”



অনেক জল গড়িয়েছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনায়,
জেগেছে নতুন চর, ভেঙ্গেছে অনেক ঘর,
উদ্বাস্তু জীবনে এসে ঠেকেছে তাদের স্বপ্ন।
যারা একদিন স্বপ্ন দেখতো-
পৃথিবীর গুটি কয়েক মানুষ যারা,
সুখ বিলাসে উন্মাদ প্রলাপ বকে,
ঠিক তাদেরই মত একজন হবে।
হায়রে স্বপ্ন-
বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু খাদ্যের প্রয়োজন,
তা হাত পেতে নিতে হয়।
আজ অনেক দিন পরে তোমার ঐ চোখ দুটিকে
দেখছি-
তোমার নিঃশ্বাস আমার শরীর ছুয়ে যাচ্ছে।
সে নিঃশ্বাসে পুরানো স্মৃতি আমার
হৃদয়ে দোলা দেয় মহা প্রলয়ের মত।
আকাশের নীল জোছনায় দুটি হাত যেন,
মিশে ছিল নদী আর সাগরের মত।
অনেক কথা না বলেও-
জোছনার আলোতে চোখের ভাষা গুলি ছিল যেন
কবিতার মত পড়া হয়ে যেত।
মনে পড়ে যায় সেই কবে তোমার ওষ্ঠ দ্বয়
কপালে চুম্বন রেখা একেছিল ঘুমন্ত আমায়-
সেই শেষ-
আজ কখন যে আমায় চায়ের কাপটি
তুলে দিয়েছ হাতে-
ইচ্ছে করেই ধীরে ধীরে চুমুক দিচ্ছি-
যেন আরও কিছুক্ষন তোমার পাশে থেকে,
সেই স্বপ্ন যা দেখেছিলাম, তাকে মেলানোর বৃথা চেষ্টা করি।
জানি পেয়ালার চা শেষ হলে-
আমাকে আবারও উদ্বাস্তু জীবনে ফিরতে হবে।
স্মৃতির পাতায় লেখা হয়ে যাবে এক কাপ চায়ের কথা।।


-মোঃ জাকির হোসেন
২৭.০৯.২০১১
Read more d
These icons link to social bookmarking sites where readers can share and discover new web pages.
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google
  • Furl
  • Reddit
  • Spurl
  • StumbleUpon
  • Technorati

সৌদি আরবে আট বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ !!!

saudi_beheaded
১জন নিহত হবার অপরাধে ৮জনকে মৃত্যুদন্ড !!!!!!!!!!!!!! এক মিশরীয়কে হত্যার সাজা হিসেবে সৌদি আরবে আট বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ হয়েছে। রিয়াদে শুক্রবার প্রকাশ্যেই তাদের দণ্ড কার্যকর করা হয় বলে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।

যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তারা হলেন- মামুন আবদুল মেনন, ফারুক জামাল, সুমন মিয়া, মোহাম্মদ সুমন, শফিক আল-ইসলাম, মাসুদ শামসুল হক, আবু হুসেইন আহমেদ এবং মতিয়ার আর রহমান। এরা সবাই শ্রমিক।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ২০০৭ সালের এপ্রিলে একটি গুদামে ডাকাতি এবং ওই গুদামের মিশরীয় নিরাপত্তাকর্মী হুসেইন সাইদ মোহাম্মেদ আবদুল খালেককে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলো।

একই ঘটনায় আরো তিন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কট্টর ইসলামী দেশ সৌদি আরবে এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড সাধারণত প্রকাশ্যেই কার্যকর হয়। তবে আট জনের একসঙ্গে শিরশ্ছেদ ঘটনা অস্বাভাবিক বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার উপ-পরিচালক হাসিবা হাজ শারাউই বলেন, "সৌদি আরবের বিচার প্রক্রিয়া মোটেও আন্তর্জাতিক মানের নয়। যেখানে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে একটি ধারা তৈরি হচ্ছে, সেখানে সৌদি কর্তৃপক্ষ শিরশ্চেদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।"

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, আট বাংলাদেশিসহ এ বছর এখন পর্যন্ত ৫৮ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, যা গত বছরের দ্বিগুণেরও বেশি। এ বছর যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ২১ জনই বিদেশি।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বেশিরভাগ বিদেশিই সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। তাদের বেশির ভাগের পক্ষে কোনো আইনজীবী থাকে না। তারা আরবিতে আদালতের কার্যক্রমও বুঝতে পারে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাও তাদের জানানো হয় না। খুব কম সময়ই তারা আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ পান।  সৌদি আরবের দুই কোটি ৭০ লাখ জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশই বিদেশি, বিশেষ করে এশিয়ার।



ইউটিউবে ভিডিওগুলোতে দেখা যায় প্রচুর খাকি পোশাক পরিহিত পুলিশ এলাকাটা ঘিরে রাখে। চারপাশে জনতার ঢল যেন সার্কাস হচ্ছে। যাকে শিরশ্ছেদ করা হবে তার পা এবং হাত বেধে হাঁটুর উপর বসানো হয়। মাথা সামনে নত করানো থাকে। তারপর সৌদি আলখাল্লাহ পরিহিত জল্লাদ তরবারি নিয়ে এগিয়ে আসে। যার শিরশ্ছেদ করা হচ্ছে তাকে কোরবানীর পশুর মত ধরে ধরে দেখে; এমন কি হাত-পা বাধার কাজটা সেই করে। সাধারণত জল্লাদ থাকে দুজন। তারা “আল্লাহু আকবর” রব তুলতে তুলতে এক কোপে কেটে ফেলে অপরাধীর মস্তক। তারপর অন্য জল্লাদ কাটা শরীরের হাতে পালস দেখে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সাথে সাথে একটা এ্যাম্বুলেন্স চলে আসে যা পাশেই অপেক্ষামান ছিল। তারপর শরীরটা স্ট্রেচারে তোলে। কেউ একজন মাথাটা ফুটবলের মত করে পাশে রাখে। তারপর এম্বুলেন্স চলে যায়।
Read more d
These icons link to social bookmarking sites where readers can share and discover new web pages.
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google
  • Furl
  • Reddit
  • Spurl
  • StumbleUpon
  • Technorati

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,
চুকিয়ে দেব বেচা কেনা,
মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেব লেনা দেনা,
বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে--
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।

যখন জমবে ধুলা তানপুরাটার তারগুলায়,
কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায়, আহা,
ফুলের বাগান ঘন ঘাসের পরবে সজ্জা বনবাসের,
শ্যাওলা এসে ঘিরবে দিঘির ধারগুলায়--
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।

তখন এমনি করেই বাজবে বাঁশি এই নাটে,
কাটবে দিন কাটবে,
কাটবে গো দিন আজও যেমন দিন কাটে, আহা,
ঘাটে ঘাটে খেয়ার তরী এমনি সে দিন উঠবে ভরি--
চরবে গোরু খেলবে রাখাল ওই মাঠে।
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে।

তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি।
সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি-- আহা,
নতুন নামে ডাকবে মোরে, বাঁধবে নতুন বাহু-ডোরে,
আসব যাব চিরদিনের সেই আমি।
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে॥
Read more d
These icons link to social bookmarking sites where readers can share and discover new web pages.
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google
  • Furl
  • Reddit
  • Spurl
  • StumbleUpon
  • Technorati


“আমার কিছু কথা”
                                                  -মোঃ জাকির হোসেন।

আমাকে ওরা রং দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে।
বাহিরের দৃষ্টি দিয়ে দেখলে,
আমাকে অপরূপ লাগবে।
আমাকে সাজিয়ে ওরা সভা মঞ্চে,
ঝড় তুলেছে বক্তব্যের।
আমাকে নিয়ে খোশ গল্পে
দেঁতো হাসি হেসে চলেছে।
আমি আমাকে নিয়ে বড়ই চিন্থিত।
আমি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছি,
দেহ্যভন্তরে দুরারোগ্য ক্যান্সারে পরিপূর্ণ।
অথচ দেহের উপর দিয়ে চলেছে ঔষধ,
রং আর বিভিন্ন পলিশ।
আমার জানা আছে, আমি পচে গেছি।
আমার মাঝে যারা বাস করছে,
তারা আমাকে ভেঙ্গে, নতুন করে
গড়তে চায়।
আমিও চাই।
এভাবে আমাকে সাজিয়ে লাভ নেই।
আমি সমাজ।
আমার পরিপূর্ণ বিকাশ চাই।।




Read more d
These icons link to social bookmarking sites where readers can share and discover new web pages.
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google
  • Furl
  • Reddit
  • Spurl
  • StumbleUpon
  • Technorati

০৯-০৩-২০০৬
“অনিক ভাই, এই অনিক ভাই শুনছেন? আজব তো! কি হলো আরে এই ভাইয়া” কত ডাকলাম। নতুন কিছুনা আজো অনিক ভাই যথারীতি শুনেও না শোনার ভান করে চলে গেলো, কেমনটা লাগে? এসব নাটকের কোনো মানে হয়? এত করে ডাকছি,খুব বুঝতে পারছি শুনছে,কিন্তু কোনো উত্তর দিবেনা। সেই কবে,ক্লাস এইটে যখন প্রথম সিলেট আসলাম,আমার কোনো বন্ধুই ছিলনা, দাদাটাও সারাদিন আমার পেছনে লেগে থাকতো। আরিফ ভাই, রাঙ্গাদা, তোতনদি, আশিক ভাই সবাই আমাকে পচাত খুব, দেখলেই শুরু হত “এই যে খুকুমনি, বাবু” আরো কত কি।অনিক ভাই শুধু কেনো যেন চুপ হয়ে যেত আমাকে দেখলে। উফ আমি এত বোকা নিজের ডাইরীতে নিজের মানুষটাকে কেমন ভাই ভাই করছি! ও কোনদিন ভাই ছিলো নাকি আমার? হা হা হা! অনিকের একটা কথা শোনার জন্য কত ঘন্টার ঘন্টা কান পেতে রেখেছি দাদাদের আড্ডায়, স্কুল ফেলে ছুটে গেছি অনিকের প্র্যাকটিস দেখতে। কতরাত জেগেছি অনিকের পায়ে ব্যথা শুনে। আর অনিক? এটা কি লেখা লাগেৃ

১২-০৩-২০০৬
বাবার গায়ে বেশ জ্বর,কোনো কারণ নেই। বাবার মন খারাপ। আর আমার মেজাজ ভয়ঙ্কর খারাপ। অনিককে হাতের কাছে পেলে চুল ছিড়ে দিতাম, মানুষ এত স্টুপিড কিভাবে হয়? শুধু কি ম্যাচ জিতলেই চলবে, নিজের খেলা নিয়েও তো ভাবতে হবে। তুমি এত ভালো প্লেয়ার, ম্যাচ উইনিং ব্যাটসম্যান বাট একটা সিঙ্গেল ম্যাচেও আজ পর্যন্ত সেঞ্চুরি করতে পারলেনা? ক্লাসের তুমি সেরা ছাত্র, অল সাবজেক্টে এ+ পাও, গিটার বাজাতে জানো পারোনা খালি একটা সেঞ্চুরি করতে। সারাক্ষণ মুখে খই ফুটে আর আমাকে দেখলেই বোবা হয়ে যাও। বাবার পা ভেঙ্গে গেছে গত মাসে, ডাক্তার বলেছে ৩ মাস বেড রেস্ট। ঘরে বসে দেশ-বিদেশের নামি দামি প্লেয়ারদের খেলা দেখলেই পারে। তবু অনিকের খেলা থাকলে বাবার দেখা চাই ই চাই। কি যে কষ্ট করে তাকে মাঠ পর্যন্ত নিয়ে যাই আমি আর দাদা জানি। আর আপনি দিব্যি ম্যাচ একাই টেনে নিলেন, দারুণ ফিল্ডিং করলেন, চার ছক্কার বন্যা বসিয়ে দিলেন, দল নিশ্চিত জিতবে তারপর যথারীতি ৯৭ রানে আউট হয়ে গেলেন। এত্ত রাগ লাগছে, ছ’রাকাত নফল নামাজ পড়েছি। মোড়ের ভুয়া কানাটাকে ৫টা টাকাও দিয়েছি, কি লাভ হলো। যত্তসব,আর কোনোদিন যদি গেছি ওই ছাগলের খেলা দেখতে। বাবাকে বলেছিলাম থাক, না যাই আজকে। না যেতেই হবে, এবার হলোতো, এখন খুবতো মন খারাপ করে বসে আছো। অসহ্য...


৩০-০৭-২০০৬
উফ আল্লাহ! অবশেষে শেষ হলো ঘোড়ার ডিমের পরীক্ষাটা। বাপরে বাপ! সেই কবে থেকে ঘরে বন্দি হয়ে আছি। শুধু পড়া, খাওয়া ঘুমৃআমার টুনটুনি আমার কুটুকুটু আমার ডাইরী সোনা তোমাকে কত্ত মিস করেছি জানো? অবশ্য অনিকের চেয়ে বেশি না, একটু কম। আরে বাবা রাগ করলে নাকি? একটু বুঝো প্লিজ। অনিক আমার বাবু না?
তবে এটা সত্যি পড়াশুনা আর নয়। উফ বাবাটা যে কি! অনেক তো পরলাম, এইচ এস সি দিয়ে দিলাম। আর কত?
সেই কবে অনিকের সাথে দেখা হয়েছিলো। অঙ্ক পরীক্ষার দিন, বেচারা দাঁড়িয়ে ছিলো হলের গেটে, আমাকে দেখে তার কি লজ্জা। কথাই বলেনা, কোনমতে এতটুকু বললো যে এমনি এদিক দিয়ে যাচ্ছিল তাই ভেবেছে হলে একটা ঢু মেরে যাই। ভেবেছিলাম জ্বালাবো খুব। কিন্তু বেচারার লজ্জা দেখে মায়া লেগে গেলো। আচ্ছা অনিক তুমি কি কোনদিনও কথাটা আমাকে বলবে না? দাদা পর্যন্ত টের পেয়ে গেছে, শুধু তুমিই কিছু বুঝোনা।


১৫-০৮-২০০৬
অনিকের কি যেন হয়েছে। কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে। সন্ধ্যায় আড্ডা দিতে আসেনা, প্র্যাকটিসেও যায়না। দাদা ফোন দিলে নাকি ফোনও ধরেনা। বাবাও সেদিন বলছিলো অনিকের কি হয়েছে রে-শুনলাম নাকি ন্যাশনাল টিমে ডাকতে পারে। কথাটা শুনে এত ভালো লেগেছিলো কান্না পেয়ে গিয়েছিলো আমার। ওইদিনই বিকেলে রিমুদের আইসক্রিম খাওয়াতে হয়েছে। কোন্ মতে ওদের কাটিয়ে হলমার্কস থেকে কার্ডও কিনে এনেছি। কিন্তু আমার রাজপুত্রের যে দেখাই নেই। আজও যদি না আসেৃ একদম গিয়ে হাজির হবো বাসায়। তখন দেখবো, কি করে।


১৭-০৯-২০০৬
অসহ্য লাগছে। মনে হচ্ছে পাগল হয়ে যাবো। একটা মাস হয়ে গেছে তোমাকে দেখিনা। তুমি নাকি রিমুকে বলেছো, তুমি খুব ভীতু মানুষ।কোনকিছু পাওয়ার সামর্থ্য তোমার নেই। এত কষ্ট পেয়েছি। তুমি ন্যাশনাল টীমে চান্স পেয়েছো, আমাকে ফেলে চলে যাচ্ছ। সারাদেশ তোমার পেছনে পেছনে ছুটবে। রাজকন্যা রাজ্য সব হবে তোমার। আমি কে? আমি কে তোমার?


২৫-০৯-২০০৬
আল্লাহ এটা কি করলে তুমি? আমি কখনোই এটা চাইনি। অনিক চলে যাবে ভেবে খুব কষ্ট হচ্ছিলো কিন্তু তাই বলে ওকে ডেকে নিয়ে বাদ দিয়ে দেবে। আর কোনদিনও খেলা দেখবোনা, কোনদিনও না। আল্লাহ এটা তুমি কি করলে?


০৩-১০-২০০৬
এখনো গা কাঁপছে আমার। বিশ্বাস হচ্ছে না। ও আল্লাহ আমি স্বপ্ন দেখিনিতো।
অনিকৃ অনিকৃ অনিকৃ
তুমি আমাকে ভালোবাসো? আমাকে? আমাকে? আমাকে? আমাকে? তুমি ভালোবাসো? আমাকে?
রিমু যখন আমাকে তোমার চিঠিটা দিলো, আমি ধরেই নিয়ে ছিলাম ও দুষ্টুমি করছে, যদিও রিমু আমার সবচেয়ে আপন বন্ধু, ও অন্তত জানে আমি কত্ত কত্ত কত্ত ভালোবাসি তোমাকে। চিঠিটাতে তোমার গন্ধ, লাইনগুলো আমাদের ভালোবাসার গল্প, মাত্র সাতটা কথা-
কণা তুমি কি জানো? পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যহীন বোকা আর মুখচোরা মানুষটা তোমার হয়ে গেছে। আজ নয়, কাল ও নয়, গত পরশু ও নয়,গত ছয় বছর আগে। তুমি কি কাউকে ভালোবাসো? বাসলে বলো, না বাসলেও - আমি শুধু আর একটা চিঠি দেব, তাতে শুধু লেখা থাকবে ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি, তুমি নাই বা বাসলে; আমি একাই দুজনের টা বেসে নেব, অতটা ভালোবাসা আমার হৃদয়ে আছে কণা...
অনিক, আমি ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি-শুধু তোমাকে।


০৫-১০-২০০৬
বাবু কেমন লাগলো আজকে? হি হি হি হি হি! ছয়টা বছর আমাকে কাঁদিয়েছো, দেখো এখন কেমন লাগে। মানুষ কত অদ্ভুত, কয়টা দিন আগেও যখন তুমি ন্যাশনাল টীমে যাই যাচ্ছি করছিলে কি ভয়েই না ছিলাম। আর কি কাজটাই না করলাম আজকেৃহি হি হি। বুকটা ধুঁকপুঁক করছিলো,তাও খুব সাহস করে বলেই ফেললাম, দেখো অনিক ভাইয়া তোমার তো সমস্যা অনেক, তুমি আসলে এতপরে জানিয়েছ, আসলে আমি তো, ইয়ে মানেৃ। হি হি হি হি হি হি হি। অনিক তো আরেকটো হলে কেঁদেই ফেলে। যখন বললাম আচ্ছা এক কাজ কর। আজ পর্যন্ত তো একটাও সেঞ্চুরি করতে পারলেনা, এর পরের যে ম্যাচটা খেলবে সেটাতে তোমাকে সেঞ্চুরি করতেই হবে। তবে নাহয় ভেবে দেখবো। কি পারবেনা? উফ আল্লাহ অনিকের মুখে যেন একটা একশ ওয়াটের বাল্ব জ্বলেই ফিউজ হয়ে গেলো। হা হা হা । বেচারা বাবুটা আমার!!!!!


১৯-১০-২০০৬
আমি এটা কি করলাম? মজা করতে গিয়ে কি করে বসলাম? টেনশনে ঘুম হারাম হয়ে গেছে, কাল অনিকের খেলা। কি হবে আল্লাহ। তুমিই পারো একমাত্র বাঁচাতে,উফ কি করলাম। নামাজ পড়ি যাই, আজ সারারাত নামাজ পড়বো।


২০-১০-২০০৬
অনিক হসপিটালে, ওকে কিছুতেই জানতে দেয়া যাবেনা, আমি মরে গেলেও না। কক্ষণো না।


২১-১০-২০০৬
অনিক তুমি যে কি, সবার সামনে হাত ধরে ফেললে। এত লজ্জা পেয়েছি আমি, এই তুমি কি? পাগল নাকি?


১৫-১১-২০১০
কাল সকালে আমাদের বিয়ে, কণা বিফং অনিকৃ
কিছু লেখার নেই আমার আজ, যা বলার তোমাকেই তো বলবো কাল থেকে, তাইনা বাবু?
আমাদের দশ বছরের লুকোচুরির পর দাম্পত্যের শুরু; এর মাঝে কোনো মিথ্যে নেই অনিক।
শুধু একটা কথা তোমাকে বলিনি কোনদিন, সেদিন লাস্ট বলে তোমার জাস্ট একটা রানই লাগতো, তুমি দারুন একটা শট নিলে, তুমি কিন্তু দৌড়াওনি, কয়েক সেকেন্ডও যায়নি তুমি সেন্সলেস হয়ে গেলে। দাদাই ক্যাচটা ধরে, ওতো জানতোনা কিছুই, পরে ওকে সব বললাম তোমার সেন্স আসলো, তোমাকে বলা হলো তুমি ছক্কা পিটিয়েই সেঞ্চুরি করেছ, তুমি সবার সামনে আমার হাত ধরে কান্না করে দিলে খুশিতে... তুমিও কাঁদছ, আমিও কাঁদছি, এবার আর আউট নয়, এবার লাভ এট নার্ভাস নাইনটিজ..



- গল্পটি সংগৃহীত।
Read more d
These icons link to social bookmarking sites where readers can share and discover new web pages.
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google
  • Furl
  • Reddit
  • Spurl
  • StumbleUpon
  • Technorati

সত্য প্রেমের গল্প !

আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরব একটি সত্য প্রেমের ঘটনা, এই ঘটনার নায়ক ছিল অপু এবং নায়িকা ছিল রিমিঝিম !
চলুন গল্প টি সুরু করা যাক -
অপু ছিল একটি সাধারণ বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং রিমঝিম ও সেই বিদ্যালয়েরই ছাত্রী ছিল।
অপুর পরিবার খুবি ভালো ছিল। অপু ছিল একটি মধ্যবিত্ত ঘড়ের ছেলে। অপু'র কখনো কিছু না পেয়ে থাকে নি, সে যা চাইত তারা বাবা তাকে ঠিকি তা এনে দিত। অপুরা ছিল ১ ভাই এবং ১ বোন।
রিমিঝিম এর পরিবার ও অনেক ভালোছিল। রিমঝিম অপুর চাইতে একটি নরম এবং কঠিন মনের ছিল। খুব অল্প কিছু হলেই রিমঝিম অনেক বেশি ভেঙ্গে পরত। রিমঝিম এর বাবাও তাকে অনেক ভালোবাসতো। রিমঝিমরা ২ ভাই এবং ৩ বোন ছিল।
রিমিঝিম কে প্রথম দিন দেখেই অপু পছন্দ করে ফেলেছিল তবে অপু তা বলতে সাহস পায় নি, প্রথমে অপু এবং রিমঝিম খুবি ভালো বন্ধু ছিল এমনকি এতো ভালো বন্ধু ছিল অনেকে বলত যা ওরা দুজন প্রেম করছে। কিন্তু আসলে অদের দুজনের মধ্যে সেরকম কিছুই ছিল না। কয়েকমাস পর অপু রিমিঝিম কে বলে বসল যে - আমি তোমাকে ভালোবাসি। রিমঝিম ও হুট করে রাজি হলে গেল পুরো ব্যাপারটাই ছিল অপুর কাছে স্বপ্নের মতন। সুরু হোল তাদের সুখের দিন, :)
কিছু দিন যেতে না যেতেই মাঝে মাঝে ছোট খাটো বিষয় নিতে তাদের ঝগড়া হত, এতে অবশ্য রিমঝিম অনেক ভেঙ্গেও পরত তবে অপু আবার সব সামলে নিত। তবে তপু আবার মনে মনে ভাবত যে "ঝগড়া হলে ভালোবাসা বারে" তাই এতো বেশি একটা গুরুত্ব দিত না।

কয়েক মাস পড় 
এবারো অপু ভেবেছিল যে সে সামলে নিবে তবে শেষ পর্যন্ত আর সামলাতে পারল না, তাদের ঝগড়া হয়ে উঠল এক ভয়ানক রাতের ঝড়ের মতন এবং রিমঝিম ও প্রচুর পরিমাণ ভেঙ্গে পরল। তারপর অপু তার ভুল বুজতে পারল এবং রিমিঝিম এর কাছে অনেক ক্ষমা চাইল তবে রিমঝিম আর ক্ষমা করল না। অবশেষে অপু কে ছেরে চলে গেল রিমিঝিম আর জনের কাছে এবং এতে অপু  এতো টা ভেঙ্গে পরল যে সে তার জীবনের গতি হারিয়ে ফেলেছে। তারপরেও সে রিমঝিম এর কাছে ফোনে অনেক ক্ষমা চেয়েছে কিন্তু রিমিঝিম তাকে ক্ষমা করে নি। এতে প্রচুর পরিমাণ কষ্ট পেয়ে অপু নিজের জীবন শেষ করে দেয় এবং অবশেষে রিমজিম বুজতে পারে যে সে একটি সত্য ভালোবাসা এবং একটি সত্য প্রেমিক কে হারায়। 
রিমিঝিম তার ভুলের জন্য সারাজীবন রয়ে যায় একা এবং বুজে জরিয়ে রাখে অপুর সব স্মৃতি ! ! ! !
Read more d
These icons link to social bookmarking sites where readers can share and discover new web pages.
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google
  • Furl
  • Reddit
  • Spurl
  • StumbleUpon
  • Technorati

কবিতা


“ মাগো এবার কিছু বলো”
মাগো সেই প্রান খোলা হাসি কোথায়?
বহুদিন আগে যা হেসেছিলাম তোমার কোলে,
হারিয়ে গেছে কি? কোথাও কোন আড়ালে।
মা এত বিষাদের ছায়া কেন?
কেন? কেন? আলো কোথায়-
মুক্তিযুদ্ধের ভয়ার্ত স্মৃতি এখনও আছে,
বাংলার পথে, ঘাটে উচ্চারিত হয়
স্বাধীনতা নামের শব্দটি।
কোলের শিশুকে তুমি ভীত হতে দাওনি,
বহু দৃশ্য তুমি দেখেছ এখানে-
তবু সংগ্রামের মাঝে আগলে রেখেছিলে,
তোমারই গর্ভের সন্তানকে,
একটু আশা, স্বপ্ন, সুখের জন্য।
মা- মা- মাগো সেকি তুমি পেয়েছ?
না পাওনি, তবে কেন এই বাকরুদ্ধতা।
তোমার সন্তান আজ যৌবনদীপ্ত লেলিহান শিখা-
কিন্তু দাওনি কেন তাকে সেই মন্ত্রনা-
হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতা,
হাসি, সুখ, স্বপ্ন তুমি দেখতে পাবে।
মা তুমি চেয়ে দেখ তোমার সন্তানেরা
আজ দিশেহারা পথভ্রষ্ট-
তোমার কন্ঠ উচ্চ থেকে উচ্চতর কর।
তীব্র বেগে প্রবাহিত হোক সে কথা,
যা তুমি রেখেছ পাথর চাঁপা দিয়ে-
তুমি কানে কানে জানিয়ে দাও,
তোমার কোটি নিষ্পেষিত সন্তানদের।
হাসি, সুখ, স্বপ্ন, আশা-
রেখেছ কোন মোহ জালে।
চাইতে বাঁচার স্বাধিকার,
আর একটি সংগ্রাম।।

-মোঃ জাকির হোসেন
২৪.১২.১৯৮৮
Read more d
These icons link to social bookmarking sites where readers can share and discover new web pages.
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google
  • Furl
  • Reddit
  • Spurl
  • StumbleUpon
  • Technorati

আসুন আমরা সবাই এনার্জি ড্রিংক বর্জন করি


https://fbcdn-sphotos-a.akamaihd.net/hphotos-ak-ash4/262300_220751077948253_199106966779331_753706_6427500_n.jpg


ইদানীং তরুণ বয়সের ভোক্তাদের মধ্যে এনার্জি ড্রিংক বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। চতুর বিপণন ও বিজ্ঞাপন এসবের মূলে। পানীয় শিল্পের একটি দ্রুত প্রসারমাণ অংশের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়াচ্ছে এনার্জি ড্রিংক। ১৪০টি দেশে ২০০ ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিংক তৈরি হচ্ছে এবং বিশ্বের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী তরুণের ৩১ শতাংশ নিয়মিত এনার্জি ড্রিংক গ্রহণ করে বলে জানা যায় (সূত্র: সাইমন এম মেশার জে: অ্যালকোহল, এনার্জি ড্রিংকস অ্যান্ড ইয়ুথ: এ ডেঞ্জারাস মিক্স: ক্যালিফোর্নিয়া; মেন ইনস্টিটিউট ২০০৭)।
অন্যান্য কোমল পানীয় ও স্পোর্টস ড্রিংকস থেকে এনার্জি ড্রিংকসের একটি তফাত হলো, এতে আছে উঁচু মাত্রায় ক্যাফেইন। ক্লান্তি দূর করার জন্য ও পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য এর প্রচার করা হয় (সূত্র: মিলার ই: জার্নাল এডল হেলথ: ২০০৮)।
বেশির ভাগ এনার্জি ড্রিংকে প্রতি ২৫০ মিলিলিটার ক্যানে আছে ৮০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন, কোনো কোনো ড্রিংকে আছে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত।
ক্যাফেইন একটি আসক্তি তৈরি করার মতো ওষুধ, যা সাধারণত নিরাপদ মনে করা হয়। এটি কেন্দ্রীয় ও প্রান্তিক স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। মাঝারি মাত্রায় পারফরম্যান্স, ধৈর্য ও মনোযোগ বাড়াতে পারলেও বেশি মাত্রায় গ্রহণে ক্যাফেইন ঘটাতে পারে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা, পেটের অসুখ ও হার্টের ছন্দে অনিয়ম। (সূত্র: নাওরাট পি ও অন্যান্য: ফুড এডিট কনটাম ২০০৩)।
বেশি ক্যাফেইন গ্রহণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উৎকণ্ঠার জন্যই ডেনমার্ক ও ফ্রান্সে এনার্জি ড্রিংক সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিশুদের কাছে এ রকম পানীয় বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নরওয়ে ও আর্জেন্টিনায় এর বিক্রি সীমিত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে স্টিমুল্যান্ট ড্রিংকস কমিটি প্রস্তাব করেছে, এনার্জি ড্রিংকের লেবেলে এই পানীয়টি যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী ও দুগ্ধবতী নারীদের জন্য বিপজ্জনক, তা লেখা থাকা উচিত।
গবেষকেরা দেখছেন, যেসব শিশু ও তরুণ নিয়মিত এনার্জি ড্রিংক পান করে, তারা এতে আসক্ত হয়ে পড়ে। ক্রমে ক্রমে বেশি মাত্রায় পানীয় গ্রহণ অভ্যাসে পরিণত হয় এবং তখন তা স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি মাঝারি মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণও কোনো কোনো বয়সে বিপদ ডেকে আনতে পারে। ক্যাফেইন কাজ করে মগজের এমন এক অংশের ওপর, যা আসক্তির কেন্দ্র বলে বিবেচিত। তাই ক্রমে ক্রমে ভবিষ্যতে ক্যাফেইন পানীয়র ওপর অনুরাগ ঘটে, যেমন চিনিবহুল কোমল পানীয় যা পরে দেহের স্থূলতাও টাইপ২ ডায়াবেটিসের পথে নিয়ে যেতে পারে। শৈশব ও বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত বয়স হলো দ্রুত বাড়ন ও মগজের বিকাশের অন্তিম স্তরের কাল। এ বয়সে পর্যাপ্ত নিদ্রা ও সুষম পুষ্টি বড় প্রয়োজন। এনার্জি ড্রিংকের ক্যাফেইন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং পানীয়র চিনি (প্রতি ক্যানে ৮-৯ চামচ চিনি) অনেক পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প হয়ে ওঠে।
এনার্জি ড্রিংক অনেক শিশুর মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও অতি চঞ্চলতা সৃষ্টি করে।
ক্যাফেইনের কোনো পুষ্টিগুণ নেই, তাই একে উৎসাহিত করারও তেমন কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন দেশের অনেক বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে এনার্জি ড্রিংক সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক স্টোরে, আউটলেটে এর বিক্রি বন্ধ করা বেশ কঠিন। অন্যান্য ক্যাফিনেটেড ড্রিংক, কফি ফ্লেভারড মিল্ক ড্রিংক ও কোলাও থাকে এর সঙ্গে। তবে দোকান বা বাজারের ওপর কেবল দোষ দেওয়া কেন? অনেক মা-বাবা বাচ্চাকে নিজেরাই কিনে দেন এনার্জি ড্রিংক। হয়তো তাঁরা জানেন না ক্যাফেইনের কুফলগুলো।
স্কুল-কলেজে এনার্জি ড্রিংক নিষিদ্ধ করা সমীচীন হবে। মা-বাবা বাচ্চাদের আওতার মধ্যে এসব ড্রিংক যাতে না আসে তাও দেখবেন।
ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকেরা সবার জন্য পানীয় হিসেবে ‘কেবল জল’কে প্রণোদিত ও উৎসাহিত করলে সবার মঙ্গল হবে।

অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস, বারডেম হাসপাতাল
সাম্মানিক অধ্যাপক, ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, নভেম্বর ০৩, ২০১০
Read more d
These icons link to social bookmarking sites where readers can share and discover new web pages.
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google
  • Furl
  • Reddit
  • Spurl
  • StumbleUpon
  • Technorati

প্রদীপ শিখা ( নাটক ) রচনা- মোঃ জাকির হোসেন

 নাটক
 প্রদীপ শিখা 
 রচনা- মোঃ জাকির হোসেন
                                     
রচয়িতার কথা
ইভ টিজিং, মাদকতা,নারী নির্যাতন,শিশু নির্যাতন কোন সম-সাময়িক ঘটনা না। এ সমাজে বহু পূর্ব থেকেই এগুলি চলে আসছে। সামজিক প্রতিরোধে কখনও থমকে দাড়ায়, আবার কখনও চলতে থাকে। “প্রদীপ শিখা” নাটকটি সম-সাময়িক ঘটনার উপর নির্মিত। নাটকটি দেখে সমাজে ইভ টিজিং, মাদকতা,নারী নির্যাতন,শিশু নির্যাতন এর বিপরীতে যদি সমাজের সর্ব স্তরের মানুষের মধ্যে সামান্যতম চেতনার প্রদীপ জ্বলে তাতেই সার্থকতা বোধ করবো-
মোঃ জাকির হোসেন
পার্বতীপুর,দিনাজপুর।
তাং-০৪.১২.২০১০ ইং

চরিত্র ক্রমানুসারে
চরিত্র :-                                                      
           
ডিজে :-                                        ২২/২৫ মাস্তান টাইপ ধনীর ছেলে
চান :-                                         ২০/২২ উপরের জনের সাঙ্গ
মনু :-                                                  অনুরূপ
ফালু :-                                                         ২০-২৫ গরীব ডিজের সঙ্গী
১ম ও ২য় মেয়ে :-                                             স্কুল পড়ুয়া
রুনা :-                                                         গরীবের মেয়ে স্কুলে পড়ে
জুলহাস :-                                             নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কলেজ পড়-য়া
শিক্ষক :-                                                      স্কুলের প্রধান শিক্ষক
চেয়ারম্যান :-                                          ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান
ইমাম :-                                                       মসজিদের ইমাম
রফিক :-                                                       জুলহাসের সঙ্গী
ম্যাজিষ্ট্রেট :-                                           ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক
সাব- ইন্সপেক্টর :-                                             তরুন বয়স
পুলিশ :-                                                       মধ্য বয়স
৩ জন ছাত্র/ছাত্রী :-                                            স্কুলগামী
২ জন অভিভাবক :-                                           মধ্য বয়স
ইকবাল :-                                             দেলোয়ারের বাবা বয়স ৫০




(১ম দৃশ্য)
(রাস্তার ধারে বেশ কিছু মাস্তান টাইপের ছেলেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে, কেউ সিগারেট টানছে, কেউ হিন্দী গানের তালে তালে নাচছে। এদের মধ্যে বেশ চাকচিক্যময় পোশাক পরিহিত ছেলে ওদের নেতা হিসাবে মনে হচ্ছে।)
মনু     :- চুড়াকে দিল ম্যারা গোরিয়া চালি..........(গান বলতে থাকে অন্যরা মনুর সাথে তাল দিতে থাকে)
চান    :- এই এই থাম থাম ব্যাটারা আজ কার পালা।
ফালূ   :- কেন ডিজের।
ডিজে :- কেন সেই দিনই না তোদের খাওয়ালাম।
সবাই  :- কোন দিন দোস্ত, ভুলে গেছি।
ডিজে :- ব্যাটারা ভুলে যাও। যে দিন নতুন মোটর সাইকেলটা আনলাম, সেই দিন।
মনু     :- হ্যাঁ দোস্ত তোর বাপের মত বাপ যদি আমার থাকতো।
ডিজে :- তাহলে কি করতি?
মনু     :- তাহলে ডেলি তোদের আমিই খাওয়াতাম।
চান    :- তুই ব্যাটা ফকিরনীর পোলা, অত স্বপন দেখতে নাই। ডিজের বাপ ডিজে যখন যা চায়, তাই দেয়। কি দোস্ত ঠিক না?
ডিজে :- (হাসি দেয়) আরে দোস্ত, আমি কোন কিছু চাওয়ার পর যদি না পাই, বাপের এক ব্যাটা আমি এক বেলা খাওয়া বন্ধ করে দেই তাতেই কাম হাসিল। কেন ডিসকভার গাড়িটাতো ওভাবেই নিলাম। ডেলি পকেট খরচের কড়কড়ে টাকা না দিলে মায়ের কাছে নালিশ, আরে বাপকা মাল দরিয়ামে ঢাল।
ফালু   :- তুই বাপের যত টাকা নষ্ট করছিস।
ডিজে :- ওই ভুতের মুখে রাম নাম। এক দিনওতো কাউকে খাওয়াতে পারলিনা। আমার টাকায় চলিস আবার উল্টা পাল্টা বলিস। তোর বাপ এইজন্য তোর নাম ফালু রেখেছে। আমরা খেয়ে দেয়ে তলানিতে যা থাকবে তাই তুই খাবি। আমার বাপের টাকা আমার যা খুশি তাই করবো তাতে তোর বাপের কি? একদিন পেটে ডাইলের পানি  না পড়লে পায়ের কাছে পড়ে থাকিস। ফের যদি উল্টা পাল্টা বলিস থাপ্‌ড়াই কানটা লাল করে দিব। ধর ব্যাটা কানে ধরে দশ বার উঠ বস কর।
( ফালু ভয়ে কান ধরে উঠ বস করে অন্যরা হাসতে হাসতে গুনতে থাকে এক , দুই তিন.........এর মধ্যে স্কুল ড্রেস পরিহিত তিনটি মেয়ে স্কুলের পথে এক সঙ্গে আসে)।
মনু     :- (১ম মেয়েকে) ও মেরি দিলকী রানী তুম কেইসে হো।
১ম মেয়ে :- সর কুত্তার বাচ্চা।( বেরিয়ে যায়)
চান    :- (২য় মেয়েকে) আরে আরে থাম যাস কই? আমার ভাঙ্গা মনে আগুন জ্বালাইয়া কই যাস। তোরে আমি স্বপনের মহলে রানী বানাইয়া রাখবো।
২য় মেয়ে :- তোর বাপকে বলে দেব কিন্তু। (বেরিয়ে যায়)
ডিজে :- (৩য় মেয়েকে) রুনা কেমন আছো?
রুনা    :- জ্বি ভাইয়া ভাল।
ডিজে :- ও রুনা ও, কতবার বলেছি আমাকে ভাইয়া বলবেনা। একটু অন্য নামে ডাকতে পারোনা।
রুনা    :- ভাইয়া আমার ক্লাস আছে, আমাকে যেতে দাও।
ডিজে :- তা তো যাবেই। আমিতো তোমাকে আগেই বলেছি, তোমার গরীব বাবা তোমার সখ আলহাদ  পূরন করতে পারেনা,আমার কথা শুনলে আমাকে একটু খুশি করতে পারলেই তোমাকে আমি টাকা দিয়ে ভাসিয়ে দিব, তোমার সারা অঙ্গে পড়িয়ে দিব টাকার অলংকার।
রুনা    :- আপনার দোহাই লাগে, আমাকে যেতে দিন নাহলে স্যার আমাকে ক্লাসে ঢুকতে দিবেনা।
ডিজে :- ও-হ-হ আচ্ছা আচ্ছা যাও। তবে ভেবে দেখো আমার কথা।
(রুনা বেরিয়ে যায়, নিরীহ গোছের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র জুলহাসের প্রবেশ)
ডিজে :- কি হে বাবা বিদ্যাসাগর, কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
জুলহাস :- আমাকে বলছেন?
ডিজে :- হ্যাঁ সোনার চান পিতলা ঘুঘু তোকেই বলছি।
জুলহাস :- আপনি আমার সাথে এভাবে কথা বলছেন কেন?
ডিজে :- (ধাক্কিয়ে) কিভাবে বলবো। আদর করে ললিপপ দিয়ে কাতুকুতু করে বলতে হবে নাকি?
জুলহাস :- দেখেন দেলোয়ার ভাই আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।
চান    :- এই ব্যাটা চুপ। কাকে দেলোয়ার বলছিস। জানিস না উনি আমাদের সকলের ডিজে ভাই।
মনু     :- চোখের চশমাটা দেখনা যেন হ্যারি পটার।
ফালু   :- না-না- শাহরুখ খান।
ডিজে এই চুপ তোরা। তা বাবা মিঃ হ্যারি পটার তোমাকে একটা কথা বলে দেই। তুমি যার সাথে খুশি যা করো কোন আপত্তি নাই। রুনার সাথে কোন ইটিশ পিটিশ করলে খবর করে দিব।
জুলহাস :- দেলোয়ার ভাই আপনি ভুল করছেন। রুনা আমার ছাত্রী। এসব কি আজে বাজে বলছেন।
ডিজে :- চুপ শালা। ছাত্রী........ ডাগর মগর চেহারা দেখে মজে গেছ তাই না?(ধাক্কা দিয়ে) আর দেলোয়ার কি ওরা কি বলে ডাকে আমাকে শুনলিনা। একটা থাপ্পড়ে পেচ্ছাব করিয়ে ছাড়বো।
জুলহাস :- দেখেন আপনি অযথা আমাকে গালি-গালাজ করছেন, ভুল করছেন।
ডিজে :- চুপ শালা।
জুলহাস :- আপনারা রাস্তায় দাড়িয়ে ছেলে মেয়েদের উত্যক্ত করছেন এটা ভাল হচ্ছে না।
ডিজে :- কি ভাল হচ্ছে না। তোর কোন বাপে আমাদের কি করবে রে। আরে বাবা সতিপনা ছাড়ো। এই ফালু তোর কাছে ডাইলের বোতলটা আছেনা, শালাকে দে তো এক ঢোক গিলিয়ে।
জুলহাস :- আপনারা প্রকাশ্যে দিবালোকে নেশা করেন এটা মোটেও উচিৎ না।
চান    :- উচিৎ না- উচিৎ না- চুপ ব্যাটা একদম চুপ। কথা বলবি না।
মনু     :- বেটা নেতা হয়ে গেছিস নাকি?
ফালু   :- ব্যাটা হাফ প্যান্ট পড়িয়ে ছেড়ে দেব।
ডিজে :- যা ব্যাটা পালা আজকের মত ছেড়ে দিলাম। যা যা বললাম না করলে খবর আছে।
( চান,মনু, ফালু জুলহাসকে বিভিন্ন অঙ্গ ভঙ্গিতে ইয়ার্কি করতে করতে ধাক্কা দিতে দিতে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়)
ডিজে :- এই শালার দিকে নজর রাখিস। এই মাল গুলা কোথায় চল ওই কোনাটায় যেয়ে টানা যাক, শালা নেশাটায় ফিকে করে দিল। (রুনা আমার রুনা তু মেরি জিন্দেগী বান গেয়ি গান গাইতে গাইতে সকলের প্রস্থান)

(২য় দৃশ্য)
(পড়ন্ত বিকেল, গ্রামের হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, চেয়ারম্যান ও ইমাম সাহেব নিজেদের মধ্যে আলোচনায় মত্ত)
শিক্ষক  :- না চেয়ারম্যান সাহেব সমাজের মধ্যে নারীদের উপর যে ভাবে নির্যাতন বেড়ে গেছে, তাতে আর কতগুলো বিচার সালিশ করে পরিত্রান পাবেন?
চেয়ারম্যান :- ঠিকই বলেছেন। আসলে এর থেকে মুক্তি পাবার পথ সমাজের ভিতরে বাস করা উন্নত মন মানসিকতার  জনতার সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।
ইমাম :- সে তো আছেই। যে ভাবে শিশূ নির্যাতন, নারী নির্যাতন, মাদক সেবন ও অপ-সংস্কৃতি বেড়ে চলেছে তাতে কোমলমতি নতুন প্রজন্মকে সঠিক রাস্তায় রাখাই মুসকিল।
শিক্ষক  :- হ্যাঁ পত্রিকার পাতা খুললেই, এ সমস্ত খবর মনটা খারাপ করে দেয়। এই দেখেন সম-সাময়িক ঘটনা গুলি ইভ টিজিং এর কারণে নারীরা আত্নহনন সহ কর্ম বিমূখতায় পড়ছে।
চেয়ারম্যান :- সেই জন্য তো সরকার আইন করে কঠিণতম বিচারের ব্যাবস্থা করছে।
ইমাম :- তবুও তো কমছেনা।
শিক্ষক :- হ্যাঁ। দেখেন এর থেকে মুক্তি পেতে হলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের এগিয়ে আসার দরকার।
চেয়ারম্যান :- কেন পত্রিকার খবর পড়েননি, কিছু দিন আগে এক শিক্ষক ইভ টিজিং এর প্রতিবাদ করায়, তাকে জীবন দিতে হলো।
শিক্ষক :- হ্যাঁ সে সাহসী শিক্ষক ছিল, আবার এমনও খবর আমাকে লজ্জা দিচ্ছে যে, শিক্ষক ছাত্রীকে উত্যক্ত করে কারাদণ্ড ভোগ করছে।
ইমাম   :- আমাদের দূর্ভাগ্য আমাদের আশে পাশে নজর দিয়ে দেখেন অর্থ লোভীরা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে মহিলাদের দিয়ে। তাদেরকে সহায়তা করছে আমাদের মত কিছু মানুষ।
চেয়ারম্যান :- মাদকাসক্তিই সমাজের তরুণদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। মাদক সেবনের টাকার জন্য মাকে হত্যা করছে, হত্যা করছে বাবাকে। নিজের রক্ত বিক্রী করে মাদক গ্রহণ করছে, নিজের জীবনকে নিয়ে যাচ্ছে এক অসীম অন্ধকারে।
শিক্ষক :- হ্যাঁ অন্ধকার জীবন থেকে এদের মুক্তি দিতে হলে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি রাস্ট্র কে দিতে হবে কঠোর আইনী ব্যবস্থা।
ইমাম  :- শুধু আইনী ব্যাবস্থায় কাজ হবে না। আমার আপনার ঘর থেকে প্রতিটি ঘরের অভিভাবকদের সচেতন হয়ে সন্তানেরা যেন বিপথে না যায় তার দিকেও নজর রাখা দরকার।
চেয়ারম্যান :- স্যার, ইমাম সাহেব এ ব্যাপারে আমাদেরও কিছু করার আছে। অভিভাবক,তরুন প্রজন্মদের নিয়ে আমরা মাদকাসক্তি, ইভ টিজিং, নারী নির্যাতন সহ সমাজের সকল অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য সংঘবদ্ধ করতে পারি।
একত্রে :- অবশ্যই পারি। (জুলহাসের প্রবেশ)
জুলহাস :- (সকলের উদ্দ্যেশে ছালাম দেয়)
সকলে         :- ( ছালাম গ্রহণ করে )
শিক্ষক :- জুলহাস কেমন আছো?
জুলহাস :- জ্বি স্যার ভাল।
শিৰক :- পড়া শোনা কেমন চলছে?
জুলহাস :- জ্বি ভাল।
শিক্ষক :- তোমার বাবা কেমন আছেন? টিউশনি প্রাকটিস কেমন চলছে?
জুলহাস :- জ্বি স্যার ভাল আছেন। টিউশনি করাচ্ছি দু একটি, সামনে ফাইনাল পরীক্ষা, মোটামুটি চলছে। এখন একটু রুনাকে পড়াতে যাব।
শিক্ষক :- রুনা তো ব্রিলিয়ান্ট, দেখ যেন ভাল রেজাল্ট করতে পারে।
জুলহাস :- জ্বি, আমি তাহলে আসি স্যার (সকলকে ছালাম দিয়ে বেরিয়ে যায়। অপর দিকে ডিজে,চান মনু ও ফালুরা গান গাইতে কোমর দুলিয়ে দুলিয়ে নাচতে নাচতে মঞ্চের অপর দিক দিযে বেরিয়ে যায়।)
চেয়ারম্যান :- স্যার এ ছেলে গুলো কে?
ইমাম :- আর বলবেন না চেয়ারম্যান সাহেব, ধনীর দুলাল ইকবালের কু-পুত্র দেলোয়ার আর তার সাঙ্গ-পাঙ্গ।
শিক্ষক :- দেলোয়ার কিন্তু এরকম ছিল না , ক্লাশ ফাইভে ও এইটে বৃত্তি পেয়েছিল। খুব ভাল ষ্টুডেন্ট ছিল। কিন্ত এখন কেন যে এমন হলো ?
ইমাম :- সঙ্গ দোষ। শুনলাম ছেলেটি নেশা করে ও রাস্তা ঘাটে বেয়াদপি আচরণ করে বেড়ায়।
চেয়ারম্যান :- ওর বাবা এগুলি নিষেধ করে না।
ইমাম :- নিষেধ করবে কি। বাবার পকেট থেকে টাকা পেয়েই তো যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে।
শিক্ষক  :- অথচ জুলহাস তার লেখা  পড়ার খরচ মেটানোর জন্য টিউশনি করে বেড়ায়। দেলোয়ার জুলহাসের চেয়ে এক শ্রেণী উপরে ছিল অথচ লেখা পড়া ছেড়ে দিয়ে রাস্তা ঘাটে মাস্তানি সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে বেরাচ্ছে এসব কথা শুনা যাচ্ছে। জুলহাস ভাল রেজাল্ট করবে ও এলাকায় নাম করবে।
চেয়ারম্যান :- অর্থ থাকলেই সব পাওয়া যায় না। নিজের সন্তান যদি মানুষের মত মানুষ না হতে না পারে, একজন পিতার  কাছে এর চেয়ে দূর্ভাগ্য আর কি হতে পারে?
ইমাম :- যা বলেছেন আর কি।
শিক্ষক :- চেয়ারম্যান সাহেব মাদক ব্যবসায়ীরা এ সমস্ত ধনীর সন্তানদের টার্গেট করে বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা যারা জনপ্রতিনিধি, তারা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে এ সমস্ত অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো যায়।
চেয়ারম্যান :- হ্যাঁ কিছু একটা করা দরকার। ইমাম সাহেব আপনিও মসজিদে মজলিশে মানুষকে বলতে পারেন।
ইমাম :- অবশ্যই।
শিক্ষক :- চলেন চেয়ারম্যান সাহেব প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আপনার তো আবার একটি মিটিং এ যেতে হবে।
চেয়ারম্যান :- হ্যাঁ চলেন আর এ ব্যাপারে আর এক দিন বসে একটা ভাল সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।
(সকলের প্রস্থান)

(৩য় দৃশ্য)
(রুনার কাঁদতে কাঁদতে প্রবেশ জুলহাস এগিয়ে যায়)
রুনা    :- স্যার আমার বুঝি আর লেখাপড়া হবে না।
জুলহাস :- কেন তোমার বাবা কিছু বলেছে?
রুনা    :- না স্যার, দেলোয়ার প্রতিদিন রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে আমাকে বিরক্ত করে, আর খারাপ কথা বলে। স্যার বলেন, এভাবে কি স্কুলে যাওয়া যায়?
জুলহাস :- না রুনা, একটা ছেলের কারণে তোমার জীবনের লক্ষ থেকে সরে আসতে পারোনা। তোমাকে লেখা পড়া চালিয়ে যেতেই হবে।
রুনা    :- তাহলে আমি কি করবো ?
জুলহাস :- তোমাকে প্রতিবাদী হতে হবে। সমাজে নারী ও পুর্বষের সমান মর্যাদা বিদ্যমান। সরকার এ সমস্ত বখাটেদের উৎপাত বন্ধ করার জন্য আইন করেছে, তার আশ্রয় নিতে হবে।
রুনা    :- স্যার আইন কি করে আমাকে রক্ষা করবে? দেলোয়ারের বাবার টাকার কাছে আইন কি তার সোজা পথে চলতে পারবে?
জুলহাস :- পারবে পারবে। তোমাকে ইভ টিজিং এর মামলা করতে হবে ওর বিরুদ্ধে। দেখ ওকে শায়েস্তা হতেই হবে।
রুনা    :- আমি লেখাপড়া করতে না পারলে আত্নহত্যা করবো।
জুলহাস :- না রুনা না। আত্নহত্যা মহা পাপ, তুমি প্রতিবাদী হলেই দেখ ও আর সাহস পাবেনা। মামলাটি কিভাবে করতে হবে, আমি চেয়ারম্যান সাহেবের কাছ থেকে জেনে এসে তোমার বাবা সহ থানায় যাব। তুমি মনে সাহস রাখো। যাও বাড়ীতে যাও। আমি চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে যাই। (উভয়ের প্রস্থান)

(৪র্থ দৃশ্য)
(চেয়ারম্যান বাড়ীর রাস্তার সামনে শিক্ষক, চেয়ারম্যান ও ইমাম দাড়িয়ে। জুলহাসের প্রবেশ)
জুলহাস :- (সবাইকে ছালাম দেয় ও সকলে ছালাম গ্রহণ করে)
শিক্ষক :- কি জুলহাস কেমন আছো?
জুলহাস :- জ্বি স্যার ভাল। আমি চেয়ারম্যান সাহেব ও আপনাদের কাছে একটু পরামর্শ নিতে এলাম।
চেয়ারম্যান :- বলো বাবা বলো।
জুলহাস :- এনামুল চাচার মেয়ে রুনাকে দেলোয়ার প্রতিদিন স্কুলের রাস্তায় উত্যক্ত করছে। রুনা আপসেট হয়ে লেখাপড়া বন্ধ সহ আত্নহত্যার চিন্থা করছে। আমি ওকে মনে সাহস দিয়ে রেখে এলাম।
শিক্ষক :- চেয়ারম্যান সাহেব আর সহ্য করা যায় না। এ অবস্থায় কি ইভ টিজিং এর মামলা করা যায় না।
চেয়ারম্যান :- অবশ্যই।
ইমাম :- হ্যাঁ এখুনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষক :- তুমি এনামুল সহ রুনাকে নিয়ে থানায় যাও।
চেয়ারম্যান :- আমরাও কিছুক্ষনের মধ্যে আসছি।
জুলহাস :- স্যার এর প্রতিবাদে কি, মানব বন্ধন, সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেয়া যায়?
শিক্ষক :- অবশ্যই করা যায়। তুমি প্রথমে থানায় যাও, আমরাও সকল ব্যাবস্থা নিয়ে আসছি।

(সকলের প্রস্থান)

(৫ম দৃশ্য)
( সারিবদ্ধ ভাবে চেয়ারম্যান, শিক্ষক, ইমাম, জুলহাস ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী সবাই দাড়িয়ে আছে। বুকে মাদক বিরোধী, ইভ টিজিং বিরোধী শ্লোগান সম্বলিত পোষ্টার নিয়ে বেশ কিছুক্ষন দাড়িয়ে থেকে তারপর একে একে সবাই বেরিয়ে যায়।)
(৬ষ্ঠ দৃশ্য)
(জুলহাস ও রফিক মঞ্চে প্রবেশ করে, অপর দিক থেকে ডিজে, চান, মনু ও ফালু প্রবেশ করে)
ডিজে :- (জুলহাসের কলার ধরে) শালা শুয়োরের বাচ্চা। তোর জন্য আজ আমাকে পুলিশ খুজছে। বেটা ইভ টিজিং এর মামলা করাও। মানব বন্ধন করো। কিস্‌সু করতে পারবেনা আমার। কয়েকদিনের মধ্যে সব ঠান্ডা করে দিব। এই শালা ছোট লোকের বাচ্চা, টাকা চিনিস টাকা। টাকার কাছে সব পানি।
জুলহাস :- আপনার ধারনা ভুল। আমার মনে হয় ইদানীং টিভি নিউজ আর পেপার দেখেন না। সরকার ও সামাজিক সংগঠনগুলো আপনাদের মত লোকদের বিরুদ্ধে যেভাবে সামাজিক প্রতিরোধ ও আন্দোলন গড়ে তুলছে তাতে রক্ষা পাবেন না।
ফালু   :- বস্‌ বেটা বেশী কথা বলছে।
চান    :- সাইজ করি বস।
মনু     :- বেশী ফাল পাড়িস কেন( জুলহাসকে ধাক্কা দেয়)
ডিজে :- চল শালা চল, আজ তোর একদিন কি আমার একদিন। (টেনে নিয়ে যেতে থাকে জুলহাসকে, জুলহাসের সঙ্গে থাকা রফিক বাধা দিতে গেলে চান, মনু, ফালু ছেলেটাকে মারধোর করে মঞ্চে ফেলে, জুলহাসকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। রফিক উঠে ওদের পিছু নেয়।)

(৭ম দৃশ্য)
(জুলহাসের সঙ্গে থাকা রফিক উল্টো দিক দিয়ে প্রবেশ এবং অন্য দিক থেকে চেয়ারম্যান, শিক্ষক,ইমামের প্রবেশ)
রফিক :- (হাফাতে হাফাতে) স্যার স্যার......
শিক্ষক :- কি রফিক তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন ?
রফিক :- স্যার আমি আর জুলহাস ভাই এক সঙ্গে ছিলাম। রাস্তায় হঠাৎ করে দেলোয়ার জুলহাস ভাইকে টেনে হেচড়ে আম বাগানের দিকে নিয়ে গিয়ে পেটে ছুরি মেরে পালিয়ে যায়।
চেয়ারম্যান :- জুলহাস এখন কোথায়?
রফিক :- আমি চিৎকার করে লোকজন ডেকে ভ্যানে করে হাসপাতালে ভর্তি করে, আপনাদের খবর দিতে এলাম, অবস্থা বেশী ভাল না।
ইমাম  :- আমাদের হাসপাতালে যাওয়া দরকার, সূচিকিৎসার খবর নেওয়া দরকার।
( এমন সময় একজন পুলিশ, সাব ইন্সপেক্টর, ম্যাজিষ্টেট সহ কোমরে দড়ি বাধা অবস্থায় দেলোয়ার,চান,মনু ও ফালুকে নিযে মঞ্চে প্রবেশ করে)
সাব ইন্সপেক্টর :- (চেয়ারম্যানকে ছালাম দেয়)
চেয়ারম্যান:- ( ছালাম গ্রহণ করে) কি ব্যাপার ইন্সপেক্টর সাহেব এদের কোথায় পেলেন। এরা নাকি জুলহাসকে ছুরি মেরেছে।
সাব ইন্সপেক্টর :- ইনি(ম্যাজিষ্টেট কে দেখিয়ে) ইভ টিজিং মামলার ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্টেট। (সবাই ম্যাজিষ্টেট কে ছালাম দেয়) এদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ইভ টিজিং এর মামলায় অনেকদিন ধরে পুলিশ খুজছিল। আজ গ্রেফতার করা হলো।
ইমাম :-চোরের দশ দিন আর সাধুর একদিন।
সাব ইন্সপেক্টর :- ওরা জুলহাসকে ছুরি মেরে পালানোর সময় আমাদের সামনে পড়ে যায় এবং ধরা পড়ে।
ম্যাজিষ্টেট :-আমার পরিচয় তো জানলেনই। আমি এই মুহুর্তে এখানেই এই ইভ টিজিং মামলাটির ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক হিসেবে আপনাদের সামনে বিচার কার্য সম্পাদন করতে চাই।
চেয়ারম্যান :- অবশ্যই।
( এ সময় বেশ কিছু স্কুল ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক গণ ঘটনা দেখার জন্য মঞ্চে প্রবেশ করে এবং সবার পিছনে  এসে দাড়ায় দেলোয়ারের বাবা ইকবাল)
ম্যাজিষ্টেট :- আজকের এই ভ্রাম্যমান আদালত অভিযুক্ত দেলোয়ার ওরফে ডিজের বিরুদ্ধে ইভ টিজিং এর মামলায় মেয়েদের উত্যক্ত করার অভিযোগ সাক্ষ্য প্রমান দ্বারা প্রমানিত হওয়ায় তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হলো এবং জুলহাসকে হত্যা প্রচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেলোয়ার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকার কর্তৃক মামলা দায়ের সাপেক্ষে গ্রেফতার দেখানো হলো।
শিক্ষক :- আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ম্যাজিষ্টেট :- না না এ আমার কর্তব্য ছিল। আপনারা এলাকার বখাটেদের সাবধান করে দিন, দিন পাল্টেছে, কেউ অন্যায় করে পার পাবে না। ইন্সপেক্টর নিয়ে চলুন এদের।
সাব ইন্সপেক্টর :- ইয়েস স্যার। এই নিয়ে চলো।
(ম্যাজিঃ,এস আই,পুলিশ দেলোয়ার ও তার সহযোগীদের নিয়ে প্রস্থান করে)
চেয়ারম্যান :- যাক সমাজের অন্তত একটি কালো দাগ উঠলো। ( পিছন থেকে দেলোয়ারের বাবা ইকবাল সামনে এগিয়ে এসে)
ইকবালঃ-  হ্যাঁ হ্যাঁ কালো দাগ। সাড়া জীবন টাকার পিছনে দৌড়িয়েছি। একমাত্র পুত্রের আবদার সেটা ভাল কি মন্দ কোন বাছ- বিচার না করে যখন যা চেয়েছে তাই দিয়েছি, কখন কোথায় কি করছে কখনও খোঁজ নেইনি। এ ভুল বড় ভুল। এ ভুল যেন সমাজে আর কেউ না করে। দেলোয়ার আমার ছেলে এটা স্বীকার করে নিতে আমার এখন লজ্জা লাগছে। এ লজ্জা আমি কোথায় রাখি।
চেয়ারম্যান :- ইকবাল সাহেব শান্ত হোন। মনটাকে শক্ত করুন। হয়তো দেলোয়ার সাজা ভোগের পর নিজেকে সংশোধন করে ফেলবে।
ইকবাল :- না চেয়ারম্যান না। এ করুন পরিণতি দেখার আগেই আমার কেন মৃত্যু হলো না। না- না- না আমি কেন মৃত্যু কামনা করবো। সমাজে এই যে ছেলে মেয়েরা রয়েছে এরা এরাই আমার সন্তান। রুনার মত মেয়েদের নিরাপদ জীবনের ক্ষেত্র তৈরী করতে আপনাদের সাথে আমিও থাকতে চাই, আমাকে নেবেন না আপনাদের সঙ্গে।
চেয়ারম্যান :- অবশ্যই আপনিও আমাদের সাথে থাকবেন।
ইকবাল :- আমি সমাজের সকল বাবা- মার প্রতি আকুল আবেদন জানাবো, আমার এ পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনারা প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন এখুনি,এখুনি প্রদীপ শিখা জ্বালাতে হবে, যাতে আর কোন সন্তান বিপথে যেতে না পারে।
শিক্ষক :- চলুন হাসপাতালে যাই। জুলহাসকে হয়তোবা উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে পাঠাতে হতে পারে।
চেয়ারম্যান :- হ্যাঁ চলুন।
ইকবাল :- হ্যাঁ চলুন। আমি ওর সকল চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করবো। আমাকে এ কাজটি করতে দিন আপনারা।
শিক্ষক  :- ঠিক আছে ঠিক আছে চলুন। (সকলে একই দিকে প্রস্থান করবে। মঞ্চ অন্ধকার)
 সমাপ্ত

( বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- যদি কেহ নাটকটি কপি করে আপনার এলাকায় মঞ্চস্থ করতে চান, তবে অনুগ্রহ পূর্বক  মূল রচয়িতার নামটা অবশ্যই দিবেন। অনুরোধ ক্রমে- রচয়িতা )

           


Read more d
These icons link to social bookmarking sites where readers can share and discover new web pages.
  • Digg
  • Sphinn
  • del.icio.us
  • Facebook
  • Mixx
  • Google
  • Furl
  • Reddit
  • Spurl
  • StumbleUpon
  • Technorati

Admaya