১.
ইদানিং আমার মন বড় বেশি অবাধ্য হয়ে গেছে। কিছুটা দীর্ঘশ্বাস উড়িয়ে অবাধ্য মনকে বাধ্য করতেই আজ লিখতে বসলাম। সাদিয়ার সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকে। কিন্তু শুধু ফেসবুক থেকে সম্পর্কটা এতদূর গড়াবে তা আমার কল্পনার বাইরে ছিল। ঘুমের মধ্যে অবচেতন মনের কল্পনাকেই মানুষ স্বপ্ন বলে। কিন্তু আমার কাছে কল্পনার বাইরের বিষয়বস্তুকেই সপ্ন বলে মনে হয়। সপ্ন হচ্ছে তাই যা মানুষকে ঘুমুতে দেয় না।
২.
আমাদের সম্পর্কটা সেলফোন পর্যন্ত আসতে খুব একটা সময় লাগেনি। ওর সাথে হওয়া প্রতিটা কথা এখনও আমার স্মৃতিতে অসমাপ্ত কবিতা হয়ে লিখা আছে। সে আমাকে প্রায়ই বলত, আমাকে নিয়ে একটি কবিতা লিখ। আমি বলতাম, তোমাকে নিয়ে মনিষীরা অনেক আগাই শত শত কবিতা লিখে গেছেন। আমি নতুন করে আর কি লিখব? আমি যদি শরৎচন্দ্র হতাম তাহলে লিখতাম, তোমাকে মনে পড়ে যখন নিঃশ্বাস নেই। আমি যদি রবি ঠাকুর হতাম তাহলে লিখতাম, তুমি আমার শেষের কবিতা। আমি যদি সেক্সপিয়ার হতাম তবে লিখতাম, যে সূর্য প্রতিদিন সমস্ত পৃথিবী দেখে সেও তোমার মত আরেকজনকে দেখেনি।
সে বলত, তাহলে কবিদের মত সবসময় ভাবে থাকো কেন?
আমি বলতাম, আমি তো কবি নই। তবে তোমার সাথে যখনই কথা বলতে যাই, জানিনা কেন আমার কথাগুলোই কবিতা হয়ে যায়।
সে হাসে। টার হাসি শুনেই বুঝলাম রবি ঠাকুর কেন বলেছিলেন, সে হাসি বিধাতা যাকে দিয়েছেন, টার কথা বলার কোনও দরকার নেই।
৩.
মাঝের কাহিনীগুলো দীর্ঘশ্বাস হয়েই জমে থাকুক। কেননা, সেগুলো এতো ভারি যে উড়িয়ে দেয়া সম্ভব নয়।
আমাকে খুঁজো না তুমি বহুদিন-
কতদিন আমিয় তোমাকে খুঁজি নাকো।
এক নক্ষত্রের নিচে তবু-
একই আলো পৃথিবীর পারে আমরা দুজনে আছি
পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়
প্রেম ধীরে মুছে যায়
নক্ষত্রেরও একদিন মোড়ে যেতে হয়।
আমি এখন জীবনানন্দের মৃত নক্ষত্র।
Tags:
ভালোবাসার গল্প













Leave a comment